প্রিকলস নামের ভেড়াটির অবিশ্বাস্য যাত্রা: সাত বছর পর হারিয়ে আবার খুঁজে পাওয়া
২০১৩-র বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড
২০১৩ সালে একের পর এক ভয়াবহ বনাঞ্চলে আগুন অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপ রাজ্য তাসমানিয়াকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। আগুন ঘরবাড়ি, খামার ও বিস্তীর্ণ বনভূমি গ্রাস করে ধ্বংসের চিহ্ন রেখে যায়।
হারিয়ে যাওয়া মেষশাবকের অডিসি
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে কয়েকটি গৃহপালিত প্রাণী, যার মধ্যে ছিল প্রিকলস নামের এক তরুণ মেরিনো ভেড়া, প্রাণ বাঁচাতে পালায়। তখন ছোট্ট শাবক প্রিকলস তার ঝাঁক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক দূরে চলে যায়।
বন্যায় সাত বছর
দীর্ঘ সাত বছর প্রিকলস কঠোর তাসমানীয় বন্যায় একা বিচরণ করে, না কাটা কোনো পশম। তার পশম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে তাকে বিশাল পশমের বলে পরিণত করে।
অপ্রত্যাশিত দৃশ্যধারণ
আগুনের বহু বছর পর প্রিকলসের পরিবার তাকে আর ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য এক চমকপ্রদ মোড় নেয়। এক রাতে নাইট-ভিশন ক্যামেরায় পরিবারের খামারের কাছে এক “বিশাল সাদা ফাজফাজে কিছু” ধরা পড়ে।
প্রিকলসের সন্ধান
ফুটেজ দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রিকলসের পরিবার রহস্যময় প্রাণীটির খোঁজ শুরু করে। খামারে বারবেকিউ করার সময় তারা প্রিকলসকে সশরীরে দেখতে পায়—এক পশলাভরা দানব, যা তার পুরনো ঝাঁকের সদস্যদের ছায়া করে দেয়।
বন্য পশুধাওয়া
প্রিকলসকে ধরতে গিয়ে শুরু হয় বন্য ধাওয়া। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পনেরো মিনিট ধাওয়ার পর তারা তাকে এক চারণভূমিতে আটকে সফল হয়।
বিশাল পশম
সাত বছর না কাটার পর প্রিকলসের পশম চমকে-দেওয়া আকার নেয়—সাধারণ ভেড়ার পাঁচ গুণ বড়। এটি তার টিকে থাকার ক্ষমতা এবং মেরিনো পশমের অবিশ্বাস্য বৃদ্ধির প্রমাণ।
নতুন নাম: কাঁটাভরা প্রিকলস
বিশাল পশমের সঙ্গে লেগে থাকা ময়লা আর ধ্বংসাবশেষ প্রিকলসকে কাঁটাভরা দানবের মতো দেখাচ্ছিল, যা থেকেই তার নতুন নাম এসেছে।
ফিরে আসা ঝাঁকে
চরম আকার সত্ত্বেও প্রিকলস দ্রুত খামারজীবনে মানিয়ে নেয়। সে তার পুরনো ঝাঁকের সঙ্গে মিলেমিশে যায় এবং চমকে-দেওয়া চপলতায় টারকি আর হাঁস তাড়া করে।
স্বাস্থ্য ও যত্ন
প্রিকলসের মুখবিহীন মেরিনো জাত তাকে সাত বছর তাসমানীয় বন্যে দেখতে ও বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে; তবে অতিরিক্ত পশম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। গ্রে পরিবার ১ মে তার ছাঁটার দিন নির্ধারণ করেছে।
তহবিল সংগ্রহ
প্রিকলসের ফিরে আসা উদযাপন এবং কোভিড-১৯-কবলিত শরণার্থীদের সহায়তায় গ্রে পরিবার My Cause ওয়েবসাইটে তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেছে। অনুদান দেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের প্রিকলসের পশমের ওজন অনুমান করতে বলা হচ্ছে।
প্রিকলসের উত্তরাধিকার
প্রিকলসের গল্প প্রাণীদের টিকে থাকার ক্ষমতা ও মানবসহানুভূতির শক্তির প্রতীক। এটি পশু কল্যাণে নিয়মিত ভেড়া ছাঁটার গুরুত্বটিও তুলে ধরে।
রেকর্ড ভাঙবে?
প্রিকলসের ছাঁটার দিন যত ঘনিয়ে আসে, জল্পনা তত বাড়ে। সে কি ৯০ পাউন্ড পশম নিয়ে বিদ্যমান রেকর্ড ভাঙবে—যেটি মেরিনো ক্রিসের দখলে? সময়ই বলবে।
প্রিকলসের অবসর
ছাঁটা শেষে প্রিকলস খামারের অবসর প্যাডডকে চলে যাবে, যেখানে শান্তি ও আরামে তার বাকি দিন কাটবে। তার অবিশ্বাস্য যাত্রা টিকে থাকবে বেঁচে থাকা, টিকে থাকা ও মানুষ-প্রাণীর অটুট বন্ধনের কাহিনি হিসেবে।
