বায়ুর লুকানো জগৎ
বায়ু আমাদের চারপাশে থাকলেও আমরা একে চোখে দেখি না, তাই প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করে চলি। দৃষ্টির আড়ালে থাকা এই অদৃশ্য পদার্থটির ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অবাক করা রহস্য।
এক কিউবিক ফুট বায়ু আসলে গোটা মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। এর মধ্যে বিস্ময়কর পরিমাণে কণা ও বিকিরণ ভেসে বেড়ায়, যেমন:
- চামড়ার কোষ: শ্বাস নেওয়ার সময় আমাদের শরীর থেকে ক্ষুদ্র চামড়ার কণা বায়ুতে মিশে যায়। চোখে দেখা না গেলেও এগুলো সেখানেই আছে।
- নক্ষত্রের ধূলি: বাতাসে ভেসে থাকে তারার ধূলিকণা—বিলিয়ন বছর আগে বিস্ফোরিত নক্ষত্রের অবশেষ।
- রেডিও তরঙ্গ: মোবাইল থেকে শুরু করে নক্ষত্র—সবকিছু থেকেই নির্গত রেডিও তরঙ্গ ছড়িয়ে থাকে বায়ুতে।
- ভিটামিন: আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য কিছু ভিটামিন বাতাসেই মিশে থাকে; যেমন সূর্যালোকে ত্বকে তৈরি হয় ভিটামিন ডি।
- মাকড়সার পা: ঠিকই পড়েছেন। মাকড়সা বড় হওয়ার সময় যে পা ঝরে, সেগুলোও বায়ুতে ভেসে বেড়ায়।
- ইও-র আগ্নেয়গিরির অবশেষ: বায়ুতে মিশে থাকে বৃহস্পতির চাঁদ ইও-র আগ্নেয়গিরি থেকে উড়ে আসা ক্ষুদ্র লাভা কণা।
এইসব কিছুই আমরা যে বায়ু শ্বাস নিই, তার ভেতরে ভেসে চলেছে—পৃথিবী যে কত জটিল ও আশ্চর্যজনক, তা আবার মনে করিয়ে দেয়।
বায়ুর গঠন
বায়ু মূলত নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আরগন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের মিশ্রণ। প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন; বাকি ১%-এ আরগন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য সূক্ষ্ম গ্যাস।
স্থান, সময় ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে বায়ুর গঠন পরিবর্তিত হয়। শহরের বায়ুতে গ্রামের তুলনায় দূষকের পরিমাণ বেশি থাকে।
বায়ুর গুরুত্ব
প্রাণের জন্য বায়ু অপরিহার্য। শ্বাস নিতে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, জলচক্রে ও মেঘ গঠনে এর ভূমিকা অপরিসীম। বায়ু না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণ অসম্ভব।
বায়ুর লুকানো বিপদ
জীবন দান করলেও বায়ু কখনও বিপদও ডেকে আনতে পারে। এর মধ্যে থাকা দূষক হাঁপানি, ক্যান্সারসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা বাতাস হিটস্ট্রোক বা হাইপোথার্মিয়া ঘটাতে পারে।
বায়ুর সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সচেতন থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি—দূষিত বায়ু এড়িয়ে চলা, আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন ইত্যাদি।
উপসংহার
বায়ু এক জটিল ও মনোমুগ্ধকর পদার্থ—জীবনের জন্য অপরিহার্য, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনকও। এর গঠন ও ধর্ম জানলে আমরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি এবং এর বিপদগুলো এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি।
