১৯২৯-এর জ্যোতিষিদের ভবিষ্যদ্বাণী: একটি ভ্রান্তি ও মিথ্যা আশা
আমেরিকান ইতিহাসের পাতায় ১৯২৯ সাল অর্থনৈতিক তাণ্ডবের কুখ্যাত বছর হিসেবে চিহ্নিত, যা মহামন্দার সূচনা করে। তবে পিছন ফিরে তাকালে আমরা ভাবতেই বাধ্য হই—যদি সবকিছু ভিন্ন হতো?
রোয়ারিং টোয়েন্টিজ: আশাবাদের দশক
১৯২০-এর দশক ছিল অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সময়। রেডিও, সিনেমা ও গাড়ির প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জাতিকে আগে কখনও না-দেখা ভাবে সংযুক্ত করে। নারীরা ভোটাধিকার পায় এবং শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।
এই আশাবাদী পরিবেশে জ্যোতিষিরা ১৯২৯-এর জন্য সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী করেন। ১৯২৮-এর ৩০ ডিসেম্বর Ogden Standard-Examiner-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা অব্যাহত সমৃদ্ধির বছর, নতুন উচ্চতায় মজুরি ও ব্যয়, এমনকি বছরের শেষে বিশ্বশান্তির কথা বলেন।
১৯২৯-এর গ্রেট ক্র্যাশ: বেদনাদায়ক জাগরণ
আজ আমরা জানি, জ্যোতিষিদের ভবিষ্যদ্বাণী আর ভুল হতে পারে না। ১৯২৯-এর ২৪ অক্টোবর শেয়ারবাজারের বুদ্বুদ ফাটে, বিপর্যয়ের শৃঙ্খল শুরু হয়। বাজার ধসে পড়তে থাকে; ২৮ অক্টোবরের কুখ্যাত কালো মঙ্গলবারে সূচক ১১ শতাংশ হারায়।
তারপরের মহামন্দা আমেরিকার অর্থনীতি ও সমাজকে বিধ্বস্ত করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকরি হারায়, ব্যবসা বন্ধ হয়, দারিদ্র্য সর্বত্যাগী হয়।
জ্যোতিষিদ্বাণীর ভ্রান্তি
১৯২৯-এর ব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী দেখায় ভবিষ্যৎ জানতে জ্যোতিষের ওপর নির্ভরের ভ্রান্তি। জ্যোতিষ বিশ্বাস করে জন্ম বা কোনো ঘটনার সময় চিরগ্রহের অবস্থান ভাগ্য নির্ধারণ করে; কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এর পক্ষে।
ভবিষ্যদ্বাণী করা—ভবিষ্যতের ঘটনা আগাম বলার শিল্প—বিজ্ঞান, শিল্প ও ভাগ্যের জটিল মিশেল। কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলেও, কেবল জ্যোতিষ বা অন্যান্য ছদ্মবিজ্ঞানে ভরসা করা শেষ পর্যন্ত বৃথা।
পিছনের চোখ ও ঐতিহাসিক বোধ
পিছন ফিরে দেখি, ১৯২০-এর আশাবাদ অনেককে মহামন্দার পথে ধাবিত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো দেখতে বাধা দেয়। শেয়ারবাজার অতিমূল্যায়িত ছিল, স্পেকুলেশন চরমে। জ্যোতিষিদের ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত উল্লাসকেই শুধু জোর দিয়েছিল, ভবিষ্যৎ-দৃষ্টি দেয়নি।
ঐতিহাসিক ঘটনা বোঝাতে তথ্যের সমালোচনামূলক পরীক্ষা ও ধারণা ভাঙার প্রবণতা চাই। পিছনের চোখ মূল্যবান পাঠ দিলেও, স্মরণ রাখা ভালো ভবিষ্যৎ সর্বদা অনিশ্চিত।
