গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপের পদচিহ্ন উদ্ঘাটিত
আবিষ্কার ও তাৎপর্য
২০১৬ সালে ভূতত্ত্ববিদ অ্যালান ক্রিল গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাতীয় উদ্যানের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ট্রেইল ঘুরে দেখার সময় একটি ইন্দ্রজালিক সন্ধান পান। একটি বিশাল বালুশিলার উপরে গোটা কয়েক গর্তের সারি খোদাই করা ছিল, যা প্রাচীন পায়ের ছাপের মতো দেখাচ্ছিল। এই চিহ্নগুলো আসলে জীবাশ্ম পদচিহ্নে পরিণত হয়েছে, যা উদ্যানে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম পদচিহ্ন।
প্যালিওন্টোলজিস্ট স্টিফেন রোল্যান্ড পদচিহ্নগুলো পরীক্ষা করে সেগুলোর বয়স প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন বছর বলে অনুমান করেছেন। এই অসাধারণ সন্ধান কেবল প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিবর্তনে আলোই ছড়ায় না, বরং বিশ্বব্যাপী অ্যামনিয়টস—শক্ত খোলসযুক্ত ডিম পাড়া প্রাণী—এর সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণও দেয়।
জীবাশ্ম পদচিহ্ন
শত শত পাউন্ড ওজনের পদচিহ্নবাহী শিলাখণ্ডটি মানাকাচা গঠন থেকে খসে পড়েছে, যা প্রায় ৩১৪ মিলিয়ন বছর আগে গঠিত বালুশিলার স্তর। পৃষ্ঠের বালি ভেজে শুকিয়ে গেলে পদচিহ্নগুলো সংরক্ষিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে জীবাশ্মে রূপান্তরিত হয়।
শিলাখণ্ডের পৃষ্ঠে দুটি স্বতন্ত্র পদচিহ্নের সেট দেখা যায়। প্রথম সেটটি এমন একটি প্রাণীর, যা ধীরে ধীরে হাঁটছিল “পার্শ্ব ক্রমবিন্যাস” পদ্ধতিতে—একটি নির্দিষ্ট ক্রমে অঙ্গ চলন করে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে। দ্বিতীয় সেটটি সামান্য দ্রুত গতির ইঙ্গিত দেয়।
প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবন সম্পর্কে ধারণা
পদচিহ্নগুলোর অধ্যয়ন প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের আচরণ ও পরিবেশ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দিয়েছে। “পার্শ্ব ক্রমবিন্যাস” হাঁটাচলা আজকের চতুষ্পদ প্রাণীদের—যেমন কুকুর ও বিড়াল—ধীর গতিতে চলার সময় ব্যবহৃত গতিশৈলী। এই আবিষ্কার বলে এই গতিশৈলী মেরুদণ্ডী প্রাণীর ইতিহাসে আদিমকালেই বিবর্তিত হয়েছে।
এছাড়া, বালির টিলায় অ্যামনিয়ট পদচিহ্নের উপস্থিতি এ জাতীয় বাসস্থানে অ্যামনিয়টের বেঁচে থাকার পরিচিত সময়সীমাকে কমপক্ষে ৮ মিলিয়ন বছর পিছিয়ে দেয়। এই সন্ধান প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিচিত্রকরণ ও অভিযোজন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বিতর্ক ও উত্তেজনা
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের প্যালিওন্টোলজি প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক মার্ক নেবেল জানান, গবেষণার কিছু উপসংহার—বিশেষ করে পদচিহ্নের ব্যাখ্যা ও শিলার বয়স—নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক হতে পারে। তবু তিনি এই আবিষ্কারকে ঘিরে উদীয়মান উত্তেজনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, কারণ এটি প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর নতুন তথ্য উন্মোচন করে এবং প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
উপসংহার
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে প্রাচীন সরীসৃপের পদচিহ্ন আবিষ্কার দূর অতীতের জানালা খুলে দিয়েছে, প্রাথমিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর উৎপত্তি ও আচরণ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করছে। এই গবেষণা আলোচনা ও নতুন গবেষণার সূচনা করতে থাকে, এই আকর্ষণীয় প্রাণীগুলো সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরও গভীর করে।
