Home বিজ্ঞানস্পেস সাইন্স জাপানের মহাকাশ-জয়: এক্স-রে উপগ্রহ ও চাঁদে নিখুঁত অবতরণযান উৎক্ষেপণ

জাপানের মহাকাশ-জয়: এক্স-রে উপগ্রহ ও চাঁদে নিখুঁত অবতরণযান উৎক্ষেপণ

by জ্যাসমিন

জাপান এক্স-রে উপগ্রহ ও চন্দ্রযান মহাকাশে পাঠাল

এক্স-রে উপগ্রহ মহাকাশ অধ্যয়ন করবে

জাপান এক্স-রে ইমেজিং অ্যান্ড স্পেকট্রোস্কপি মিশন (XRISM) নামে একটি এক্স-রে উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে। XRISM-এ রয়েছে দুটি যন্ত্র, যা উচ্চ শক্তির বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ এক্স-রে শনাক্ত করবে। এই উপগ্রহটি পৃথিবী থেকে ৩৫০ মাইল উপরে কক্ষপথে ঘুরবে এবং তারকা ও ছায়াপথের মাঝারি গরম প্লাজমার গতি ও রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

প্লাজমা হলো চার্জযুক্ত কণার তৈরি অতি গরম পদার্থ, যা দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বড় অংশ গঠন করে। এতে তারকা ও সুপারনোভা বিস্ফোরণে গঠিত মৌলের ইতিহাস লুকিয়ে থাকে। প্লাজমা অধ্যয়ন করে বিজ্ঞানীরা তারকা, ছায়াপথ ও ছায়াপথের ক্লাস্টারের গঠন ও বিবর্তন ভালোভাবে বোঝার আশা করছেন।

XRISM-এর যন্ত্রগুলোর মাঝে রয়েছে একটি স্পেকট্রোমিটার, যা প্রায় নির্শূল তাপমাত্রায় কাজ করবে এবং একক এক্স-রে সনাক্তকরণে তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ করবে। এই স্পেকট্রোমিটার রশ্নির উৎসের তাপমাত্রা, গঠন ও গতি নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির চেয়ে ৩০ গুণ ভালো রেজোলিউশনে পরিমাপ করতে পারবে।

XRISM-এর রয়েছে একটি এক্স-রে ইমেজার, যা বিস্তৃত দৃশ্যে ছবি তুলবে। উপগ্রহটি কক্ষপথে পৌঁছে ক্যালিব্রেশন করবে এবং তিন বছর কাজ করার কথা রয়েছে।

চন্দ্রযান নিখুঁত অবতরণ প্রদর্শন করবে

এক্স-রে উপগ্রহের পাশাপাশি জাপান চাঁদে অবতরণের জন্য স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেটিং মুন (SLIM) নামে একটি অবতরণ যান পাঠিয়েছে। SLIM জ্বালানি সাশ্রয়ী পথে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছাবে এবং তিন থেকে চার মাস লাগবে। এরপর এটি এক মাস চাঁদের কক্ষপথে থাকবে, তারপর নামবে।

SLIM মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো অত্যন্ত নিখুঁত অবতরণ প্রদর্শন। সাধারণত চন্দ্র অবতরণকারীরা কয়েক থেকে দশ কিলোমিটারের মধ্যে অবতরণ করে, কিন্তু SLIM ১০০ মিটারের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে নামতে চায়।

আরও নিখুঁত অবতরণ ক্ষমতা মহাকাশযানকে নিরাপদে নামতে সাহায্য করবে এবং এমন স্থানগুলোতে গবেষণা সম্ভব করবে যেখানে আগে যাওয়া যেত না। SLIM-এর গন্তব্য হলো অ্যাপোলো ১১-এর অবতরণস্থলের ঠিক দক্ষিণে শিওলি ক্রেটার।

জাপানের চন্দ্রাভিলাস

SLIM সফলভাবে অবতরণ করলে জাপান চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণকারী পঞ্চম দেশ হবে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), চীন ও ভারতের পর। এই মিশনটি ভবিষ্যতে জাপানি নভোশাসকদের চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনার অংশ।

মিশনের গুরুত্ব

XRISM ও SLIM উৎক্ষেপণ মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। XRISM বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে, আর SLIM নিখুঁত চন্দ্র অবতরণের সম্ভাব্যতা প্রমাণ করবে। এই মিশনগুলো মহাবিশ্ব বোঝায় অবদান রাখবে এবং চাঁদ ও তার বাইরে ভবিষ্যতের মানুষের অন্বেষণের পথ তৈরি করবে।

You may also like